
ডে-নাইট নিউজ | অনলাইন ডেস্ক : শীত আসতে এখনো বেশ কিছুটা সময় বাকি। এরই মধ্যে ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আকাশে কুয়াশার মতো আবছা ভাব দেখা যাচ্ছে। ফলে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে—শীতের আগেই কি কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে?
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ঢাকার আকাশে বর্তমানে যে আবছা ভাব দেখা যাচ্ছে, সেটিকে পুরোপুরি কুয়াশা বলা ঠিক হবে না। রাতের দৈর্ঘ্য বাড়ার কারণে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা কমে যাওয়া, বাতাসে জলীয় বাষ্প এবং ঢাকার বাতাসে ধূলিকণা ও দূষিত কণার আধিক্যের কারণে ভোরের দিকে এমন ধোঁয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, ২৩ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ধীরে ধীরে রাতের ব্যাপ্তি বাড়তে এবং দিনের দৈর্ঘ্য কমতে থাকে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে রাতে ভূপৃষ্ঠ থেকে তাপ বিকিরণের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। এ প্রক্রিয়াকে ‘রেডিয়েশন কুলিং’ বলা হয়।
তিনি বলেন, রেডিয়েশন কুলিংয়ের কারণে রাতে ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা কমে আসে। একই সঙ্গে বাতাসে থাকা জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়। ঢাকার বাতাসে ধূলিকণা ও বিভিন্ন দূষিত কণার পরিমাণ বেশি থাকায় ভোরের দিকে আবছা বা ধোঁয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি হতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, ঢাকায় বর্তমানে যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তা মূলত ধোঁয়াশা (স্মগ); একে কুয়াশা বলা ঠিক হবে না। এ কারণে দৃষ্টিসীমাও কিছুটা কমে আসে এবং দূর থেকে কুয়াশার মতো মনে হয়।
তবে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। এসব এলাকায় ভোরের দিকে হালকা কুয়াশার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে তেঁতুলিয়াসহ উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় কুয়াশার পাশাপাশি ধোঁয়াশার প্রভাবও থাকতে পারে।
শীতের প্রকৃত আগমনী পরিস্থিতি সাধারণত নভেম্বরের শেষের দিকে স্পষ্ট হতে শুরু করবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। তখন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কুয়াশার প্রকোপও ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।
এদিকে, মঙ্গলবার সকালে বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় শীর্ষে ছিল ঢাকা। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল ২৩৪, যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। একই সময়ে ভারতের কলকাতা ১৯৮ স্কোর নিয়ে তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল।