
তবে ঘুমানোর আগে কিছু সহজ অভ্যাস নিয়মিত চর্চা করলে শরীর ও মন ধীরে ধীরে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। জেনে নিন ঘুমের আগে করণীয় ৮টি বিষয়—
ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও টেলিভিশন থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন। এসব ডিভাইসের আলো ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোন মেলাটোনিনের স্বাভাবিক নিঃসরণে প্রভাব ফেলতে পারে। এ সময় বই পড়া বা শান্ত কোনো কাজে সময় দিতে পারেন।
ঘুমের আগে কিছুক্ষণ নিরিবিলি বসে ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে। এতে মন কিছুটা শান্ত হয় এবং ঘুমের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা সহজ হতে পারে।
ব্যস্ত দিনের শেষে নিজের জন্য কিছুটা সময় রাখুন। হালকা গরম পানিতে গোসল শরীরের ক্লান্তি কমিয়ে আরাম দিতে পারে। চাইলে ঘুমের আগে সহজ কোনো ত্বকের যত্নের রুটিনও অনুসরণ করতে পারেন।
দীর্ঘ সময় বসে কাজ করার ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে টান বা অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। ঘুমানোর আগে হালকা স্ট্রেচিং কিংবা সহজ কিছু যোগব্যায়াম শরীরকে আরাম দিতে পারে। তবে এ সময় অতিরিক্ত ভারী ব্যায়াম করা উচিত নয়।
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার চেষ্টা করুন। নিয়মিত এই অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক ঘুম-জাগরণ চক্র বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
বিছানায় যাওয়ার পর কাজ, পড়াশোনা কিংবা ব্যক্তিগত নানা বিষয় নিয়ে চিন্তা করতে থাকলে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে। তাই ঘুমের আগে দিনের ব্যস্ততা থেকে নিজেকে কিছুটা সরিয়ে নিন। ধীর শ্বাস-প্রশ্বাস বা মেডিটেশন করতে পারেন।
ভালো ঘুমের জন্য ঘর শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক রাখা জরুরি। তীব্র আলো এড়িয়ে চলুন এবং ঘরের তাপমাত্রা আরামদায়ক রাখার চেষ্টা করুন। গোছানো ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশও ঘুমের জন্য স্বস্তিদায়ক হতে পারে।
রাতের ঘুম শুধু দিনের সমাপ্তি নয়, বরং শরীর ও মনকে পরের দিনের জন্য প্রস্তুত করার সময়। প্রতিদিন ঘুমের আগে একই ধরনের শান্ত রুটিন অনুসরণ করলে শরীর ধীরে ধীরে ঘুমের জন্য প্রস্তুত হওয়ার সংকেত পেতে পারে।
তবে এসব অভ্যাস সবার ক্ষেত্রে একইভাবে কাজ নাও করতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুমের পরও নিয়মিত ঘুমের সমস্যা থাকলে বা তা দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।