
ডে-নাইট নিউজ | অনলাইন ডেস্ক মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় থাকা অ-মুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্ত করে বাদ দিতে কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি বলেছেন, দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষভাবে পুরো তালিকা যাচাই করা হবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের তালিকা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের প্রকৃত তালিকা প্রণয়নের কৌশল নির্ধারণে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় রাখা এবং অ-মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দেওয়াই বর্তমান যাচাই-বাছাইয়ের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের শহীদ ও বীরাঙ্গনাদের তালিকাও নির্ভুলভাবে প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অ-মুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে নানা সময়ে বিতর্কও হয়েছে। তাই কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়াই তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে সঠিক তালিকা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
মুক্তিযোদ্ধা তালিকা নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না জানতে চাইলে আহমেদ আযম খান বলেন, বুধবারের সভাটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আয়োজন করা হয়নি। বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। সবার মতামতের ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।
নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আবেদন নেওয়া হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, নতুন করে আবেদন গ্রহণ করা হবে না। ৭ অক্টোবরের পর নতুন আবেদন নেওয়া হবে না জানিয়ে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
তবে যারা এরই মধ্যে আবেদন করেছেন, তাদের আবেদন বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হবে। যাচাইয়ে কেউ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হলে তাকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একইভাবে আগের তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানান তিনি।
অ-মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় থাকার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ইতিহাসকে নির্ভুল ও কলঙ্কমুক্ত রাখতে এ ধরনের অসঙ্গতি দূর করা প্রয়োজন। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন সঠিক ইতিহাস জানতে পারে, সেই লক্ষ্যেই মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সাংবাদিক, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।