প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 18, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Oct 18, 2026 ইং
মেঘনায় ইলিশ ধরা নিষেধাজ্ঞা চলছে:খাদ্য সহায়তা পাননি রায়পুরের ৫৯৮২ জেলে

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: মা ইলিশ রক্ষায় বুধবার মধ্যরাত থেকে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে। এতে ১১তম দিন পার হতে চললেও রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী ও দক্ষিন চরবংশী ইউনিয়নে প্রশাসক না থাকায় খুবই বেকায়দায় রয়েছেন রায়পুর উপজেলা মৎস বিভাগ। এতে ৫ হাজার ৯৮২ জন জেলে খাদ্য সহায়তা পায়নি। এতে জেলেদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
তবে সহায়তার সরকারি বরাদ্দের চাল ইউনিয়নে ইউনিয়নে পাঠানো হয়েছে; পর্যায়ক্রমে তা বিতরণ করা হবে বলে জানান লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন।
গত ৬ অক্টোবর রায়পুরের উত্তর চরবংশী ইউপির প্রশাসক সহকারি কমিশনার, (ভুমি) নিগার সুলতানার চাঁদপুর সদরে বদলি এবং দক্ষিন চরবংশী ইউপি চেয়ারম্যানের মৃত্যু হওয়ায় দুই ইউপিতে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এবিষয়ে জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।।দুই ইউপির ৫৯৮২ জন জেলে চাল পাবেন।।
রায়পুর ও সদরে জেলেদের দাবি, সরকার শুধু চাল দেয়, তাও সামান্য। এ ছাড়া শুধু চাল দিয়ে হয় না, অন্যান্য খরচও রয়েছে। মাছ না ধরলে উপার্জন বন্ধ, সেখান অন্যান্য খরচ মেটানো সম্ভব হয় না। এজন্য চালের পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছে জেলেরা।
মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, মা ইলিশ সংরক্ষণে গত ৮ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এই অভিযান চলবে। এ সময় নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময় ইলিশ সংরক্ষণ, আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
রামগতির আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে জেলেদেরকে সচেতন করার জন্য নদী এবং উপকূলবর্তী এলাকায় মাইকিং ও পোস্টারিংসহ সব ধরনের প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসন ও জেলা মৎস্য বিভাগ।
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরসহ ৫টি উপজেলায় প্রায় ৫৪ হাজার জেলে নিবন্ধিত। এসব জেলে মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। নিবন্ধিত জেলের মধ্যে ৪২ হাজার ১৫০ জেলে পরিবারকে প্রায় ১৫৩ টন ভিজিএফের চাল দেওয়া হবে। প্রতি জেলেকে ২৫ কেজি হারে চাল সরবরাহ করা হবে। বরাদ্দ কম থাকায় বাকি ১১ হাজার ৮৫০ জেলে ভিজিএফের চাল পাচ্ছেন না।
রায়পুরের চরবংশী খাসেরহাট এলাকায় হাসিম মাঝি, হামিদ, সরব আলী, খলিল সৈয়াল সহ কয়েকজন জেলে বলেন, তারা এখনো খাদ্য সহায়তা পাননি। এ ছাড়া জেলেদের তালিকা নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। অনেক জেলে ২০ বছরেও কোনো সহায়তা পাননি।
তবে নিষেধাজ্ঞার আগেই বরাদ্দ করা চাল দেওয়ার দাবি জেলেদের। আবার কেউ কেউ বলছেন, অপ্রতুল সহায়তা নিয়ে অসন্তোষের কথা। এ ছাড়া পরিবার পরিজন ও ঋণের বোঝার কথাও অনেকের বলেছেন।
মৎস্য কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নদীতে মৎস্য বিভাগ, উপজেলা-জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হবে। যারা আইন অমান্য করে নদীতে যাবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলেদের খাদ্য সহায়তা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “শীঘ্রই খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। আরও বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে, তা পেলে বাদ পড়াদের মাঝে বিতরণ করা হবে।”
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন নাহার বলেন, উত্তর চরবংশী ইউপি এবং দক্ষিন চরবংশী ইউপিতে প্রশাসক না থাকায় বেশি জটিলতা দেখা দিয়েছে। এতে করে ৫ হাজার ৯৮২ জন জেলেকে চাল দেয়া যাচ্ছেনা। এবিষয়ে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।।
আব্দুল মালেক নিরব
সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ ডে-নাইট-নিউজ