
উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের তালুকদারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে কালাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী আজিজার রহমানের দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাত্রাই মৌজার ৬৫৮ নম্বর দাগে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া চার শতক জমিতে তাঁদের একটি পুরোনো বাঁশঝাড় রয়েছে। প্রায় ৭০ থেকে ৮০ বছর ধরে তাঁরা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন। সম্প্রতি জমিটি নিয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ দেখা দেয়। এর জেরে গত বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দলবদ্ধভাবে সেখানে প্রবেশ করেন। এরপর তারা প্রকৃতি ও পরিবেশের তোয়াক্কা না করে ওই বাঁশঝাড় থেকে আনুমানিক ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ৪০০ থেকে ৪৫০টি অপরিপক্ব বাঁশ কেটে সাবাড় করে দেন।
এ সময় আজিজার রহমান বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে দা, কুড়াল, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন।
এ ঘটনায় রেজাউল ইসলাম, আবদুস সামাদ, শাহজাহান আলী, আবদুস সাত্তার, সজল ও আবদুল মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আজিজার রহমান বলেন, ‘তারা অপরিপক্ব বাঁশগুলো কেটে পরিবেশের ক্ষতি করার পাশাপাশি বাঁশঝাড়টি একেবারে উজাড় করে দিয়েছে। আমাকে মারধর করেও তারা ক্ষান্ত হয়নি, উল্টো এখন প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমার পৈতৃক জমিটি জোরপূর্বক দখলের জন্যই তারা এমন তাণ্ডব চালিয়েছে।’
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুস সামাদ বলেন, ‘মানিক আমার নাতি হন। সে কীভাবে জমি পাবে, তা নিয়ে দুই পক্ষ কাগজপত্র নিয়ে বসুক। যার কাগজপত্র সঠিক হবে, সে–ই জমি ভোগদখল করবে।’ তবে নির্বিচারে এতগুলো অপরিপক্ব বাঁশ কেটে ফেলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল আলম বলেন, বাঁশঝাড় কাটা ও মারধরের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।