
জয়পুরহাট প্রতিনিধি জয়পুরহাটের কালাইয়ে রাতের আঁধারে ৪০তম বিসিএস (শিক্ষা) ক্যাডারের এক কর্মকর্তার বাগানের শতাধিক ফলজ গাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রোববার রাতে উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়নের উলিপুর ভেরেন্ডী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এতে ওই বাগানমালিকের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ওই কর্মকর্তার নাম ফজলে রাব্বি। তিনি উলিপুর ভেরেন্ডী গ্রামের আবদুল মান্নান ফকিরের ছেলে।
আজ রোববার সকালে বাগানে গিয়ে গাছগুলো কাটা অবস্থায় দেখতে পান তিনি।
ফজলে রাব্বি জানান, ৩৫ শতক জমির ওপর গড়ে তোলা তাঁর ওই বাগানে দুই থেকে তিন বছর বয়সী প্রায় ১০০টি লিচু, সুপারি, আম, ডালিমসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছ ছিল। রাতের আঁধারে কে বা কারা গাছগুলো কেটে ফেলেছে। প্রতিটি গাছেই এবার ফল ধরার সম্ভাবনা ছিল।
তিনি বলেন, ‘এলাকার সবার সঙ্গেই আমার সুসম্পর্ক রয়েছে। কারও সঙ্গে কোনো পূর্বশত্রুতা বা বিরোধ নেই। এ কারণে কাকে সন্দেহ করব, তা বুঝতে পারছি না। তবে স্থানীয় কেউ জড়িত না থাকলে দূর থেকে এসে একসঙ্গে এতগুলো গাছ কেটে ফেলা সম্ভব নয়।’ দোষী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় লোকজন। একই গ্রামের বাসিন্দা আনিসুর রহমান বলেন, সমাজে চলতে গেলে মানুষের মধ্যে মনোমালিন্য বা মতবিরোধ থাকতেই পারে। তাই বলে আক্রোশের বশে এভাবে কারও বাগানের গাছ কেটে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
নির্বিচারে এতগুলো গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ‘প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব' কালাই শাখার সাধারণ সম্পাদক সহিবুল ইসলাম পাভেল বলেন, ‘গাছপালা আমাদের পরিবেশের প্রাণ এবং প্রকৃতির অমূল্য সম্পদ। ব্যক্তিগত কোনো আক্রোশ থেকে নির্বিচারে এ বিপুলসংখ্যক জীবন্ত গাছ কেটে ফেলা চরম অমানবিক ও প্রকৃতিবিরোধী অপরাধ। আমরা পরিবেশবাদীদের পক্ষ থেকে এই জঘন্য ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি করছি।’
এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুল আলম বলেন, বাগানমালিক মুঠোফোনে বিষয়টি জানানোর পর ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যদের পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।