সর্বশেষ খবর

ভারত ভাঙ্গার শব্দ ও একুশ শতকের বাংলাদেশ

প্রকাশিত: 15/12/2019

জসিম মুহাম্মদ রুশনী

ভারত ভাঙ্গার শব্দ ও একুশ শতকের বাংলাদেশ

১৯৪৭ সালে বপন করা বীজটি বিষবৃক্ষে রূপ নিয়েছে। সেটা ভারতের বেলায় যেমন, তেমন -ই বাংলাদেশের বেলায়ও। ভারত পথ হারিয়েছে ৬ যুগ পর, বাংলাদেশ এখনও পথটাই খুঁজে পেলো না। অথচ ৪ যুগ বয়সী!! ভারতে জিন্নাহ্'র দ্বি-জাতিতত্ত্ব সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেয়ে গেলো অমিত মোদিদের হাতে। আর বাংলাদেশে এখনও সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ স্বাধীনতার বিপক্ষ শিবিরে; কেউ বুঝে, কেউবা না বুঝে। লজ্জাস্কর এই বিভক্তি। উপমহাদেশ ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের মুখোমুখি। পাকিস্তান তো জন্মলগ্ন থেকেই অশান্ত। ভারত ছিলো বহুজাতিক এক রাষ্ট্র, সেটি এখন দ্বিতীয় ইসরাইল হওয়ার পথে। ক্ষোভ যেভাবে মাথাচাড়া দিচ্ছে, তাতে করে "ভারত" নামের কোনও রাষ্ট্রের -ই অস্তিত্ব থাকবে না পৃথিবীর মানচিত্রে। ভারত থাকবে না - এই কথাটা কী শুধুই ক্ষোভ থেকেই বলছি? মোটেও নয়, সেটা যুক্তি বলছে। ২৮ প্রদেশের মধ্যে একটিও কী ভারত নামে আছে? (এখানে আমি কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক Rahman Henry'র কাছে ঋণী)। কোনও প্রদেশ যেহেতু "ভারত" নামে নেই, সেহেতু খণ্ড খণ্ড হতে চলা রাষ্ট্রপুঞ্জে ওই নামের কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে না। জাতিরাষ্ট্র বিনির্মাণের বিপ্লব ঘটতে যাচ্ছে।

বহুজাতিক ভারত ভেঙ্গে গেলে বিশ্ববিপ্লবের নূতন এক দিগন্ত উন্মোচিত হবে। জাতীয়তাবাদের গরম হাওয়ায় উষ্ণ হয়ে যাবে গোটা পৃথিবী। ধসে যাবে আভিজাত্যের গরিমা। স্বনির্ভরতার পথ খুঁজে পাবে নিপীড়িত পৃথিবী। ভারত ভাঙ্গার যে শব্দ শুনছি প্রতিমুহূর্তে তা হয়তো শাপেবর হবে বিপ্লবের জন্য। কিন্তু বাংলাদেশের ভাগ্যে কী ঘটবে? বাংলাদেশ তো জাতিরাষ্ট্র -ই। এই জাতিরাষ্ট্র হতে পারতো পথিকৃৎ। কিন্তু এখানে ভয়াবহ অন্তর্দ্বন্দ্ব। এবং দুঃখজনক সত্য যে এই জাতিরাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ট নাগরিক স্বদেশবিরোধী। 'মতাদর্শিক দাসত্ব" এ জাতির মস্তিষ্ককে ঠেসে রেখেছে। এত্থেকে নির্মুক্তির পথটা কী? নূতন বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশ "রোল মডেল" হতে পারতো, যদি অন্তর্দ্বন্দ্ব মিটিয়ে নেয়া যেতো। অন্তর্দ্বন্দ্ব মেটানোর ক্ষেত্রে সহনশীলতা জরুরি। ঈর্ষা -প্রতিহিংসা থাকলে সেটা হয় না। স্বাধীনতার স্থপতির উপর যারা ঈর্ষান্বিত ছিলো তাদের আদর্শিক প্রজন্ম এখনও বিষোদগার করে তাঁকে ও বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে। এই বিভাজন "ভারত ভাঙ্গা"র উন্মাদনার চাইতেও ক্ষতিকর। একুশ শতকের বাংলাদেশ এক জটিল সমীকরণের উপরেই দাঁড়িয়ে আছে।

আরও পড়ুন

×