সর্বশেষ খবর

দেশে কোন ভাস্কর্য বানানো হলে তা টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেওয়া হবে: বাবুনগরী

প্রকাশিত: 28/11/2020

ডে-নাইট নিউজ ডেস্ক:

দেশে কোন ভাস্কর্য বানানো হলে তা টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেওয়া হবে: বাবুনগরী

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী হুমকি দিয়েছেন দেশে যে কোন ভাস্কর্য তৈরি হলে তা টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেওয়া হবে। শুক্রবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী পার্বতী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশে তিনি এই হুমকি প্রদান করেন।

বাবুনগরী বলেন, "আমি কোনও রাজনৈতিক দলের নাম নিচ্ছিনা। যারা ভাস্কর্য তৈরি করবে তাদের বানানো ভাস্কর্য টেনেহিচড়ে নিক্ষেপ করা হবে। কেউ যদি আমার বাবার নামেও কোনও ভাস্কর্য তৈরি করেন সেটাকেও  টেনেহিঁচড়ে ফেলে দেব।"

আল আমিন সংস্থা নামে একটি সংস্থা এই সমাবেশের আয়োজন করেন। সংগঠনের বেশিরভাগ নেতাকর্মী হেফাজতে ইসলামের অনুসারী বলে জানা যায়।

উক্ত মাহফিলে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের প্রধান বক্তা হওয়ার কথা ছিল। প্রশাসনের অনুরোধে তিনি উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা যায়। জঙ্গিবাদবিরোধী ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরুদ্ধে কথা বলায় মাওলানা মামুনুল হককে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। আইন-শৃংখলা রক্ষার্থে মাহফিলের চারপাশে এক কিলোমিটার এলাকায় পুলিশ প্রহরা ছিল।

জুনাইদ বাবুনগরী জনসমাবেশে বলেন, প্রশাসনের অনুরোধে মামুনুল হক ঢাকায় ফিরে গেছেন। তিনি বলেন, আমরা শান্তি চাই। বিরোধ চাই না। মামুনুল হকও সমাবেশে আসতে আগ্রহী ছিলেন না। আমরাও তাকে আনতে আগ্রহী নই। তারপরেও কিছু কুচক্রীমহল হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে অশ্লীল স্লোগান দিয়ে মামুনুল হকের কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছে এবং নানান অশ্লীল স্লোগান দিয়ে একজন আলেমের সাথে বেয়াদবি করেছে। 

জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, বিশ্বজুড়ে আস্তিক ও নাস্তিকদের মধ্যে লড়াই চলছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে কোনও লড়াই নেই, তারা শুক্রবারের নামাজেও পাশাপাশি দাঁড়ান। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একে অপরের সাথে আত্বীয়ও করেন, মুসলমানরা সবাই ভাই ভাই। তবে একজন আস্তিক এবং নাস্তিক কখনও এক হতে পারে না। তিনি বলেন, " মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যে দেশটি মদিনা সনদে পরিচালিত হবে। আমি প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সাথে একমত। আমরাও সেটাই চাই যে দেশটি মদিনা সনদে পরিচালিত হোক।'

শুক্রবার মামুনুল হককে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মাহফিলে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদ সমাবেশে পুলিশের বাধা দেওয়ায় হেফাজতে ইসলামের আমির নিন্দা জানান। তিনি বলেছিলেন যে তৌহিদী জনগণের উপর এ জাতীয় মারধর করা অত্যন্ত দুঃখের বিষয়। হেফাজতে ইসলাম প্রতিবাদ মিছিল থেকে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে মুক্তি না দিলে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
 

আরও পড়ুন

×