Gov. SL No: 352
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : Oct 11, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন’ প্রসিকিউশনকে পলকের প্রশ্ন

ডে-নাইট নিউজ | অনলাইন ডেস্ক মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষীর জবানবন্দির একটি অংশ বাদ দেওয়ার আবেদনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়েছেন সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। একপর্যায়ে প্রসিকিউশনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন?’ পরে ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’ মন্তব্য করলে তাঁকে কথা কম বলতে বলেন ট্রাইব্যুনাল।

রোববার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এ ঘটনা ঘটে। এদিন একই মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয় ও পলকের বিরুদ্ধে দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কর্মকর্তা মাহদী আমিন।

সাক্ষ্যগ্রহণের একপর্যায়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সাক্ষীকে একটি প্রশ্ন করেন এবং বক্তব্যটি ভূতাপেক্ষ কি না জানতে চান। প্রথমে উত্তর দিতে না চাইলেও পরে সাক্ষী বলেন, বক্তব্যটি ভূতাপেক্ষ হবে।

এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে প্রসিকিউশনের উদ্দেশে পলক বলেন, ‘এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন? এখানে আমার বিচার হচ্ছে। ধৈর্য নিয়ে কথা বলবেন। এখানে সবাই বিচারপ্রার্থী। আমরা আপনার কোনো আদেশ বা কথা শুনতে এখানে আসিনি।’

জবাবে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত রয়েছেন। তাঁদের কিছু বলার থাকলে তাঁরা বলতে পারেন। তবে আদালতের অনুমতি ছাড়া কোনো আসামি এভাবে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারেন না। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট আইন দেখানোর কথাও বলেন।

এ নিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, ‘কথায় কথায় আইন দেখাচ্ছেন কেন?’ বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নজরে আনেন প্রসিকিউটর। পরে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও বাদানুবাদ হয়।

ট্রাইব্যুনাল জানতে চান, আসামিপক্ষ সত্যিই এমন মন্তব্য করেছে কি না। আদালত বলেন, এ ধরনের মন্তব্য আপত্তিকর। জবাবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, প্রসিকিউশন কোনো বিষয়ে কথা তুললে আসামি বা তাঁর আইনজীবীরাও আপত্তি জানাতে পারেন।

অন্যদিকে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, আদালতে বক্তব্য দিতে হলে অনুমতি নিতে হবে। এ সময় আসামিপক্ষের কেউ কেউ মন্তব্য করেন, প্রসিকিউটর মাঝেমধ্যে ক্ষেপে যান।

পরিস্থিতির মধ্যে পলককে উদ্দেশ করে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘রেগে গেলেন তো, হেরে গেলেন।’ কথা বলতে চাইলে অনুমতি নিয়ে বলতে হবে বলেও নির্দেশ দেন আদালত। তখন পলক বলেন, ‘অযৌক্তিক তো কিছু বলিনি।’ জবাবে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘এখানে ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। কেউ কোনো কিছু ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না।’ এরপর আবার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

ইন্টারনেট বন্ধের প্রসঙ্গ নিয়ে আপত্তি

সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী পর্যায়ে ন্যাশনাল টেলিযোগাযোগ মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের প্রসঙ্গ তোলেন সাক্ষী মাহদী আমিন।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসির কার্যালয়ে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী পলকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে জিয়াউল আহসানকে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট সেবা চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে জবানবন্দির এ অংশ নিয়ে আপত্তি জানায় প্রসিকিউশন। তাদের বক্তব্য, আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কথাটি এলেও তা মামলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়। এ যুক্তিতে ওই বাক্য বাদ দেওয়ার আবেদন জানায় তারা। সাক্ষীও প্রসিকিউশনের বক্তব্যে সায় দেন।

এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পলক বলে ওঠেন, ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে।’ তখন ট্রাইব্যুনাল তাঁকে বসতে বলেন এবং সতর্ক করে বলেন, ‘একটু বসতে পারেন। কথা কম বলেন দয়া করে।’

পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে পলক বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আমি বিনয়ের সঙ্গে অনুমতি চাই। প্রসিকিউটর মহোদয় সাক্ষীকে প্রশ্ন করে জবানবন্দি নিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে এটা বাদ দিতে হলে হোস্টাইল করতে হবে।’

এ সময় সাক্ষী জানান, সারা দেশে মোবাইল ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক এনটিএমসির নির্দেশনায় বন্ধ করা হয়—এ বক্তব্য আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে। তবে সারা দেশে ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে তিনি জানেন না। ২৮ জুলাইয়ের সভার মাধ্যমে ইন্টারনেট চালুর বিষয়টি জানতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।

পলকের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে আইনি লড়াই করছেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। আর পলাতক থাকায় জয়ের পক্ষে সরকারি খরচে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মনজুর আলম। শুনানির সময় তাঁরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলার অভিযোগ

প্রসিকিউশনের আনা তিনটি অভিযোগে বলা হয়েছে, সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে ফেসবুকে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ান পলক। এর পরদিন ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র সদস্যরা হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ইন্টারনেট বন্ধ করে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনা দেওয়া এবং হত্যায় সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে জয় ও পলকের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জন নিহত হন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তরায় ৩৪ জনকে হত্যায় সহায়তার অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি জয় ও পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন একই আদালত।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন’ প্রসিকিউশনকে পলকের প্রশ্ন

1

সিদ্ধিরগঞ্জে যৌতুক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সজিব গ্রেফতার

2

সিলেটের ট্রেনের টিকেট অনলাইনে আসা মাত্র হাওয়া

3

হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব ডিম দিবস-২০২৬ উদযাপিত

4

১ হাজার কোটি টাকার জামানতে ২২ হাজার কোটি ঋণ

5

সৌদিতে থেকেও মিছিলের মামলায় আসামি ইলিয়াস

6

ঝিনাইদহে ঘাতকের শাস্তির দাবিতে মায়ের সাংবাদিক সম্মেলন

7

পুলিশ পরিদর্শকের ওপর হামলার পর খুলনায় রাতে একা চলাচলে নিষেধা

8

সিলেটে এ বছর ৬৩৬ স্থানে দুর্গাপূজা হচ্ছে

9

ঘরেই তৈরি করুন মুচমুচে ভেটকি ফিশ ফ্রাই, জেনে নিন সহজ রেসিপি

10

জরাজীর্ণ ঘরে, মানবেতর জীবন, নিরাপদ. মাথার গোঁজার ঠাঁই চান

11

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে সিগারেট কোম্পানি পরিচালনার অভ

12

বিদায়ী ম্যাচে মেসির ঝলক, এক গোল ও দুই অ্যাসিস্টে আর্জেন্টিনা

13

দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকার পর সিসিকের নতুন পরিকল্পনায় সিলেট জালালা

14

মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে রিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যা, পিবিআইয়ের জালে

15

ড্রোন হামলা ঠেকাতে পাকিস্তানের পুলিশ ফাঁড়িতে অভিনব জাল

16

নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ১১০৬

17

সিলেটের পর্যটন কেন্দ্র গুলো হারাচ্ছে প্রকৃতির রূপ ও বৈচিত্র্

18

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিভিন্ন অ'

19

গোলাপগঞ্জ প্রেসক্লাবে নতুন কমিটির বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীদে

20