রামগতিতে ভিক্ষুকের জমি রেজিষ্ট্রি না দেয়ায় লাশ দাফনে বাঁধা
ডে-নাইট-নিউজ ;
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ০৬:১১ পিএম;
রামগতিতে ভিক্ষুকের জমি রেজিষ্ট্রি না দেয়ায় লাশ দাফনে বাঁধা
নাসির মাহমুদ (লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি) : লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে আবু তাহের (৭০) নামের স্থানীয় এক জমি বিক্রেতার লাশ দাফনে বাঁধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার চর বাদাম ইউনিয়নের পূর্ব চরসীতা গ্রামের আবদুল অদুদ ভোলারবাপের জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান তিনি পরে পরিবারের সদস্যরা তার লাশ দাফন করতে গেলে এলাকার স্থানীয় সাকু মিয়ার স্ত্রী ভিক্ষুক মরিয়ম (৫৫) ও তার ছেলে জলিল মিয়া আবু তাহেরের জানাজায় উপস্থিত হন। উপস্থিত লোকজনের সামনে জমি রেজিস্ট্রি দিলেই তবে তাহেরের লাশ দাফন হবে এমন হুমকি দেন মা- ছেলে। এতে স্থানীয়দের মাঝে চরম অসন্তোষ লক্ষ করা গেছে। এসময় স্থানীয়দের আশ্বাসে মরহুমের লাশ দাফন করা হয়।
জানা যায়,ওই এলাকার আবু তাহের ও ছিদ্দিক উল্লা নামের দুই সহোদর ভাইয়ের কাছ থেকে ভুক্তভোগী মরিয়ম বেগম দীর্ঘ ২৬ বছর আগে (১৯৯৮) চরসীতা মৌজার ২৯৭ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ২০ শতক জমি ক্রয় করেন। দুই ভাই আবু তাহের ও ছিদ্দিক উল্লাহ জমিটি রেজিস্ট্রি দিতে গড়িমসি করার কারণে রেজিস্ট্রির আগেই মরিয়ম ওই জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে অদ্যবদি পর্যন্ত বসবাস করে আসছেন। এরইমধ্যে ২০১৬ সালে ছিদ্দিক উল্লাহ মারা যান। ওই সময়ও ভুক্তভোগী মরিয়ম ছিদ্দিক উল্লার লাশ দাফনে বাঁধা দিলে আবু তাহের জমিটি রেজিস্ট্র দিবে মর্মে ওয়াদা দিলে স্থানীয়রা ছিদ্দিক উল্লার লাশ দাফন করেন।
ভুক্তভোগী ভিক্ষুক মরিয়ম বেগম এই প্রতিবেদককে জানান, দীর্ঘ ২৬ বছর আগে ছিদ্দিক উল্লাহ ও আবু তাহেরের কাছ থেকে ওই জমিটি কিনে বাড়ি তৈরি করেছেন তিনি । জমি বিক্রি করার টাকা নেওয়ার পর বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে আজও জমিটির রেজিষ্ট্র করে দেয়নি আবু তাহের। এরই মধ্যে ছিদ্দিক উল্লাহ মারা যাওয়ার পর তাহের রেজিস্ট্র দিবে মর্মে সমাজের মানুষের কাছে ওয়াদা করেছিল। পরক্ষণে ১০ বছর পেরুলেও কথা রাখেনি সেও। আমার জমি রেজিস্ট্রি না দিয়ে এখন আবু তাহের মারা গেছে। যে কারণে তার লাশ দাফনে বাঁধা দিয়েছি। পরে তার সন্তানরা ও সমাজের লোকজনের আশ্বাসে লাশ দাফন করতে দিয়েছি বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, স্বামী সাকু মিয়া গত ১৫ বছর ধরে শরীরে পক্ষপাতগ্রস্ত সমস্যায় আক্রান্ত। এক ছেলে থাকলেও ভবঘুরে। যে কারণে ভিক্ষা করে স্বামীকে নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটছে তাদের। তিনি বলেন,আবু তাহের এলাকার প্রভাবশালী হওয়ার কারণে জমিটির রেজিস্ট্রি চাইতে গিয়ে অনেক হয়রানির শিকার হতে হয়েছে তাকে।
এসময় অশ্রুসিক্ত চোখে মরিয়ম বলেন,আমার দুনিয়াতে কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। আমি আমার জমির রেজিস্ট্রি চাই।।
স্থানীয় ইসমাইল মাস্টার জানান, ছিদ্দিক উল্লাহ ও আবু তাহের মরিয়মের কাছে জমি বিক্রি করছে সত্য। কিন্তু কি কারণে রেজিস্ট্রি দিচ্ছেনা তা আমার বোধগম্য নয়।
মৃত আবু তাহেরের ছেলে মো.হাসান জানান, আমার বাবা চাচা মরিয়মের কাছে জমিটি বিক্রি করেছে সত্য, তবে কেন কি কারণে তারা জমি রেজিস্ট্রি দেয় নাই বা দিচ্ছেনা তা আমার বুঝে আসেন। তবে আমার বাবা- চাচা মরিয়মের কাছ বিক্রিত জমির রেজিস্ট্রি করে না দিলেও এখন আমরা তা ব্যবস্থা করবো।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, এ বিষয়ে কেউ আমাকে জানায়নি। তবে এমন ধরনের কাজ করা মোটেই ঠিক হয়নি। তবুও খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।
.
ডে-নাইট-নিউজ /
সারাদেশ বিভাগের জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার মতামত লিখুন: