
গল্পটা তখনকার যখন এ অঞ্চলে আ.লীগের নাম মুখে নিলে মানুষ তিরস্কার করতো। কর্মীরা যখন মিছিল করে মুখে নৌকার শ্লোগান গান দিতেন, তখন পাশ থেকে ‘নৌগা নৌগা’ বলে হাস্যরস করতো। ঠিক ওই সময়ে (আশির দশকে) রামগতি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সভাপতি ও শিক্ষক মহসিনের সাথে আ.লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন তার স্ত্রী বেগম রেবেকা। .
আ.লীগকে গতিশীল করতে স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিক্ষক মহসিনের সাথে লক্ষীপুরের রামগতি- কমলনগরের প্রত্যন্তাঞ্চলের মানুষের সাথে মিশে গিয়ে গড়ে তোলেন শত-শত নেতা-কর্মী। প্রায় দুই যুগের বেশি সময় ধরে বৃহত্তর রামগতি উপজেলা মহিলা আ.লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বপালন করার পর আ.লীগের রাজনীতিতে দূরদর্শীতার সীকৃতি স্বরুপ ২০০৫ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে “পলিটিক্যাল এক্টিভিটিস” সনদ প্রদান করে সম্মানিত করেন। এছাড়া ২০১৯ সালে কমলনগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে নৌকার মনোনয়ন দেন। পরে দলের সমন্বয়ের ভিত্তিতে উপজেলা আ.লীগের সভাপতি নুরুল আমিনকে সুযোগ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ান রেবেকা।.
বর্তমান কমলনগর উপজেলা আ.লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রেবেকা মহসিন যুগান্তরকে জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বামী মাষ্টার মহসিনের প্রতি অনুপ্রানিত ও বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষন শুনে যৌবনে তিনি আ.লীগের রাজনীতিতে জড়ান। দু:সময়ে জীবনবাজি রেখে দলের জন্য কাজ করেছেন। দলের জন্য যখন পকেট থেকে এক টাকা খরচ করার লোক ছিলনা তখন স্বামী স্ত্রী দু’জন মিলে লাখ লাখ টাকা খরচ করেছেন। প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি করে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবের নামে কাঙ্গালী ভোজের আয়োজন করেছেন। তাদের দু’জনার বহু শ্রম ঘামের বিনিময়ে এখন এ অঞ্চলে আ.লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গেল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী তাকে নৌকার মনোনয়ন দিলেও দলের স্থানীয়দের স্বীদ্ধান্তে তিনি ভোটে অংশ নিতে পারেননি। এসময় বঙ্গবন্ধুর তনায়া জননেত্রী শেখ হাসিনার কৃপায় চলতি সংসদের (নারী কোটায়) সংরক্ষিত নারী আসনে সদস্য হতে চান বলে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।.
কমলনগর উপজেলা আ.লীগের সভাপতি নিজাম উদ্দিন বলেন, দলের দু:সময়ে দলের জন্য রেবেকা ও তার পরিবারের অনেক ত্যাগ রয়েছে। এখনো দলের জন্য নিবেদিতপ্রান। সে হিসেবে জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি তাকে (রেবেকা) মুল্যায়ন করেন নেত্রীর প্রতি আমরা কমলনগর উপজেলা আ.লীগ কৃতজ্ঞ থাকবো।.
মুক্তিযোদ্ধা মফিজ মাষ্টার বলেন, মাষ্টার মহসিন একজন রনাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা। তার স্ত্রী রেবেকাও একজন ত্যাগী আ.লীগ। তাছাড়া এ অঞ্চলে আ.লীগকে সুসংগঠিত করার পিছনে তার পরিবারের অনেক ত্যাগ শ্রম রয়েছে। নেত্রী তাকে সংরক্ষিত নারী আসনে সদস্য নির্বাচিত করলে তার (রেবেকা) দ্বারা দলের অনেক উপকার হবে।.
ডে-নাইট-নিউজ / নাসির মাহমুদ, লক্ষীপুর জেলা প্রতিনিধি:
আপনার মতামত লিখুন: