ডে-নাইট নিউজ | অনলাইন ডেস্ক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্যানেল মেয়র আবদুস সবুর লিটনের মালিকানাধীন একটি সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করে নেপথ্য থেকে পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এ অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এ বিষয়ে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
রাশেদ খাঁনের দাবি, নওফেল ও আবদুস সবুর লিটনের মালিকানাধীন ‘তারা ইন্টারন্যাশনাল টোব্যাকো’ নামের প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ‘জেনুইন লিফ টোব্যাকো লিমিটেড’ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নেপথ্য সমর্থনে পরিচালিত হচ্ছে।
ওই পোস্টে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে তদন্ত করছে।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এ কে এম জিয়া উদ্দিন প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হন। পরে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়কের পদ পান বলেও দাবি করা হয়েছে।
এরপর প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার ক্ষেত্রে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সহযোগিতা নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে রাশেদ খাঁন সাম্প্রতিক কুষ্টিয়ার একটি ঘটনাও সামনে আনেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কুষ্টিয়ার ওই ঘটনায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী কেন নীরব ছিলেন, সেটির কারণ কি এখন স্পষ্ট হচ্ছে?
এনসিপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন। তাঁর দাবি, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর কুষ্টিয়ার স্থানীয় নেতারাও বিষয়টির দায় নিতে আগ্রহী নন এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারাও এ বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান জানাননি।
শেষে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের প্রতি প্রশ্ন রেখে রাশেদ খাঁন জানতে চান, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিতর্কিত ওই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সুবিধা রাজনৈতিকভাবে অন্য কারও কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের বিষয়।
তবে রাশেদ খাঁনের এসব অভিযোগের বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, এনসিপি কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য জানা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন