
২০২০ সালের মার্চে করোনা মহামারির বিস্তারে বিশ্ববিদ্যালয় সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়ালেখা অনেকটা গুছিয়ে ও নিয়েছিলো তাদের এপ্রিলে অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি পরীক্ষার জন্য। কিন্তু বিধি বাম! নেমে এলো করোনার এক ভয়াল বাধা। অতঃপর পরীক্ষা নেয়ার আর কোন উপায়ান্তর না দেখে সরকার অটো পাস ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয় । যার ফলে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ভাগ্য চলে যায় তাদের জেএসসি ও এসএসসির রেজাল্টের উপরে৷ অবশেষে ২০২১ সালের ৩০ জানুয়ারি উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ফলাফল প্রকাশিত হয়৷ .
বেশিরভাগ শিক্ষার্থী সন্তুষ্ট হলেও কিছু ছাত্রছাত্রী কিন্তু হঠাৎ করেই পড়লো জীবনের অস্তিত্ব রক্ষার সন্ধিক্ষণে। জেএসসি ও এসএসসি তে এভারেজ পাস করেও বুয়েট,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের স্বনামধন্য নানা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়ে আসছিলো তাদের মতো কম জিপিএ ধারী শিক্ষার্থীরা ও। কিন্তু,এবার যেনো তাদের কপালে নেমে এলো অমাবস্যার ঘুটঘুটে অন্ধকার৷ চাইলেই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ভর্তি.
পরীক্ষা দিতে পারছে না সবাই। আবার জেএসসি ও এসএসসিতে কম নম্বর থাকায় বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষায় ও আবেদন করতে পারে নি তারা৷ কেননা বুয়েটে এইচএসসির নম্বরের শর্ত ছিলো ভর্তি পরীক্ষায় আবেদনের জন্য। .
গুচ্ছ পদ্ধতিতে দুঃখ লাঘব হচ্ছে তা অনেকাংশেই ঠিক। কিন্তু তার সাথে আরো কিছু বিষয় ও তুলে ধরা উচিত৷ সবার পরীক্ষা সব বিশ্বিবদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় একরকম হয় না৷ দেখা গেলো, ঢাকায় ভালো করেছে তো রাজশাহীতে সিরিয়াল নেই আবার রাজশাহীতে সিরিয়াল নেই তো কি হয়েছে! সিলেটে সিরিয়াল ১০০ এর মধ্যে চলে এসেছে৷ অতএব আবহাওয়া, পরিবেশ, শিক্ষার্থীর মানসিক অবস্থা, পারিবারিক সমস্যা সহ নানা বিষয়ের উপর ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল নির্ভর করে৷ তাই বেশ কয়েকটি ভর্তি পরীক্ষা দিলে প্রকৃত মূল্যায়ন পাওয়া যায়। .
সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে না পাওয়ার কষ্টের মাঝে তাদের কষ্ট আরো বাড়িয়ে দেয় ভর্তি পরীক্ষার ক্রমাগত তারিখ পরিবর্তন ৷ কেউ হয়তো শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ পেয়েছে, কিন্তু দিতে পারছে না। ফলে, তার আশার বাধ ভাঙছে প্রতিদিন ও প্রতিক্ষণ। শুধু একটা আশা নিয়েই বুকভরা স্বপ্নে দিন কাটাচ্ছে।.
এদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কিন্তু ভর্তি কার্যক্রম গুছিয়ে ফেলে ক্লাস ও চালু করে দিয়েছে অনেক দিন হলো। ফলে, পাবলিক বিশ্বিবদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়বে, কেননা এখন পর্যন্ত কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ই ভর্তি পরীক্ষা নেয় নি৷ ব্যাচমেটদের আগে বেড়িয়ে যাওয়া ও পাবলিক বিশ্বিবদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সেশন জটে আটকে থাকা ভবিষ্যতে পাবলিকের শিক্ষার্থীদের আরো হতাশাগ্রস্ত করে দিবে৷ .
এই বাস্তবতায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত আবেদন থাকবে যেনো অতি দ্রুত সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ থেকে মুক্ত করে। এছাড়া ইতোমধ্যে বছরখানেক পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা যেনো বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুততম সময়ে পাস করে বের হতে পারে সেই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যুগোপযোগী পদক্ষেপ কামনা করি৷ . .
ডে-নাইট-নিউজ / আসিফ আলম চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
আপনার মতামত লিখুন: